ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে কর্পোরেট চুক্তি করল তুর্কি এয়ারলাইন্স চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা: আত্মকর্মসংস্থানে আনসারের 'সঞ্জীবন' প্রকল্প একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে : মির্জা ফখরুল বিদ্যুতের দাম বাড়ালো সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য : সিইসি এবার ড. ইউনূসের শাসনামলের সব ঘটনার তদন্ত চেয়ে রিট ভারতগামী ফ্লাইটে একের পর এক বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্প-শি বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ পুলিশকে যেন কেউ দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে বিটিডব্লিউএ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫: সেরা ট্রাভেল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সম্মানিত হলেন সালাহউদ্দিন সুমন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক জলবায়ু ও শান্তির লক্ষ্যে ঢাকায় বৈশ্বিক নেতৃত্বের ঐক্য-রয়্যাল কনক্লেভ ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটম মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার বাগবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ফের ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল উত্তর কোরিয়া, বাড়ছে উত্তেজনা বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা কেন অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া? জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল বিদ্যুৎ ঘাটতি, সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন

  • প্রকাশের সময় : Apr 25, 2026 ইং
২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল বিদ্যুৎ ঘাটতি, সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন ছবির ক্যাপশন:
1768459961horizontal2.png

সোমবার গভীর রাতে দেশে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট, অথচ উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার ১৯৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। পিক আওয়ারে প্রয়োজনীয় উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে, যার ফলেই ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তারতম্য থাকলেও প্রায় সবখানেই সংকট প্রকট। গাজীপুরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গিয়ে লোডশেডিং প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে, সাভারে কিছু এলাকায় তা ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে, সিলেটে গড়ে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে এবং গ্রামাঞ্চলে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনাও ঘটছে। ফলে শহরের পাশাপাশি গ্রামেও বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গরমে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় দিনে একাধিকবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও গৃহস্থালির কাজ সবই বিঘ্নিত হচ্ছে।

সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা বা কম সক্ষমতায় চলা। যেমন- চট্টগ্রামে ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি বন্ধ, খুলনায় ১০টির মধ্যে ৬টি বন্ধ এবং সিলেটেও কয়েকটি কেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ রয়েছে।

জ্বালানি সংকট, বিশেষ করে এলএনজি আমদানিতে সমস্যা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদনে। গাজীপুর, সাভারসহ শিল্পাঞ্চলে অনেক কারখানা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে উৎপাদন খরচ, সময়মতো রপ্তানি নিয়েও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।

রেস্তোরাঁ, পর্যটন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ও লোডশেডিং বড় প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহক হারানো, খাদ্য সংরক্ষণে সমস্যা ও অতিরিক্ত জেনারেটর খরচ—সব মিলিয়ে লোকসান বাড়ছে।

চলতি বোরো মৌসুমে সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। এতে ধান উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

সংকট মোকাবিলায় সরকার কর্মঘণ্টা কমানো, হোম অফিস চালু করা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। তবে বাস্তবতা হলো—চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধান দ্রুত কমানো না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, বিদ্যুৎ সংকট এখন শুধু একটি খাতের সমস্যা নয়—এটি দেশের অর্থনীতি, উৎপাদন ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। দ্রুত কার্যকর সমাধান না এলে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক:

কমেন্ট বক্স