প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 10, 2026 ইং
জ্বালানিতে কোনো সংকট নেই, আতঙ্ক থেকে পাম্পে ভিড়: প্রতিমন্ত্রী

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। ফলে আপাতত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে অতীতেও কোনো সংকট ছিল না, এখনো নেই। রমজান ও ঈদকে নির্বিঘ্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দেশের জ্বালানি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পেট্রোল পাম্পে যে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে তা মূলত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির। এই ধরনের যানবাহনের প্রধান জ্বালানি হচ্ছে অকটেন ও পেট্রোল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পেট্রোল প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশে পরিশোধিত হয়। অকটেনের সিংহভাগও আমরা দেশে পরিশোধন করে পাই, কিছু অংশ আমদানি করতে হয়। মূলত ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রে আমাদের আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি।
তিনি আরও বলেন, এতদিনেও কোনো পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সংকট হয়নি। হয়তো কিছু জায়গায় অপেক্ষা করতে হয়েছে, কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হয়নি। এখনো জ্বালানির দামও বাড়েনি।
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গতকাল প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি নিয়ে দুটি জাহাজ আসার কথা ছিল। এর মধ্যে একটি ইতোমধ্যে পৌঁছেছে এবং আরেকটি আউটার অ্যাঙ্করেজে রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে সেটি থেকে জ্বালানি খালাস শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১২ তারিখে আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে অতীতেও কোনো সংকট ছিল না, এখনো নেই। রমজান ও ঈদকে নির্বিঘ্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে একটি পাইপলাইন চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার টন জ্বালানি আসার কথা রয়েছে। এর একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে এসেছে এবং বাকি অংশ ধারাবাহিকভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই সরবরাহ চুক্তি প্রতি বছর নবায়ন হয় এবং বর্তমানে এর মেয়াদও রয়েছে। ফলে এ নিয়ে কোনো সংকট নেই।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১১৫ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা পরে ১০৬ ডলারে নেমে আসে। এতে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। তবুও সরকার আপাতত জ্বালানি বা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। জনগণের দুর্ভোগ বাড়ুক তা আমরা চাই না। করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে তা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সেই বিবেচনায় আপাতত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক নয়াদিন