ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বগুড়ার বাগবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ফের ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল উত্তর কোরিয়া, বাড়ছে উত্তেজনা বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা কেন অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া? জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিনর গ্রুপ প্রধানের সাক্ষাৎ ইরান আলোচনায় ফিরে না এলেও কিছু যায় আসে না : ট্রাম্প এমন সশস্ত্র বাহিনী চাই, যাদের বহিঃশক্তি সমীহ করবে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি কেন পেয়েছিলেন পূর্ণিমা হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার : স্বাস্থ্য সচিব ইরানের সঙ্গে ‘১০ দফা’ চুক্তির খবরকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে জিতেছে ইরান, বড় সাফল্য বলছে যুক্তরাষ্ট্র বগুড়ায় উপনির্বাচন ও শেরপুরে নির্বাচন উপলক্ষে আনসার-ভিডিপির সর্বাত্মক প্রস্তুতি আদালতের উদ্দেশে ডিবি কার্যালয় থেকে শিরীন শারমিনকে নেওয়া হয়েছে ৭০-এর দশকেও বিশ্ব দেখেছিল তেল সংকট, এবার কী অপেক্ষা করছে? নতুন সরকারের প্রথম একনেকে অনুমোদন পেল ৬ প্রকল্প স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্পের অহংকার মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে ইরান যে কোনো সময় মার্কিন দূতাবাসে হামলা, সতর্কতা জারি যুদ্ধ বন্ধে চীন ও পাকিস্তানের ৫ দফা

তারুণ্য ও মেধার মেলবন্ধন: এনসিপির প্রার্থী তালিকায় বড় চমক!

  • প্রকাশের সময় : Jan 22, 2026 ইং
তারুণ্য ও মেধার মেলবন্ধন: এনসিপির প্রার্থী তালিকায় বড় চমক! ছবির ক্যাপশন:
1768459961horizontal2.png
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩০ জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথাগত রাজনীতির ধারা ভেঙে তরুণ প্রজন্ম এবং উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের ওপরই বেশি ভরসা রাখছে দলটি। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বের প্রাধান্য এবং উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।৭৩ শতাংশই তরুণএনসিপির ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনের বয়সই ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ, মোট প্রার্থীর প্রায় ৭৩ শতাংশই তরুণ। তালিকায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হলেন নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ, যার বয়স মাত্র ২৬ বছর। অন্যদিকে, প্রবীণতম প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন নাটোর-৩ আসনের এস এম জার্জিস কাদির (৬৪ বছর)। রাজনীতিতে নতুন রক্ত সঞ্চালনের এই প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।২৬ জনই স্নাতক বা তদূর্ধ্বএনসিপির প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তালিকায় থাকা ৩০ জনের মধ্যে ২৬ জনই (৮৬ শতাংশ) উচ্চশিক্ষিত। দলটিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী আছেন দু’জন, স্নাতকোত্তর আছেন ১৭ জন, স্নাতক ৭ জন, এইচএসসি ও অন্যান্য ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন।পেশাগত বৈচিত্র্যে গুরুত্ব পাচ্ছেন পেশাজীবীরাসাধারণত বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য দেখা গেলেও এনসিপির তালিকায় বিভিন্ন পেশার মানুষের সুষম উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পেশাজীবীদের এই আধিপত্যকে মেধাতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ী ৮ জন, শিক্ষক ৫ জন, আইনজীবী ৪ জন, সাংবাদিক ৩ জন, চিকিৎসক ও লেখক ২ জন এবং অন্যান্য (ব্যাংকার, পরামর্শক, কৃষি ও উন্নয়নকর্মী) ৬ জন প্রার্থী রয়েছে।আমরা দীর্ঘকাল ধরে যে ‘পেশি শক্তি’ ও ‘পরিবারতন্ত্রের’ রাজনীতি দেখে আসছি, এনসিপি তার বিপরীতে একটি মেধা ও তারুণ্যনির্ভর বিকল্প উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে।এনসিপির মনোনীত প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় দলটি প্রার্থী মনোনয়নে তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়েছে। এ ছাড়া ৩০ জনের মধ্যে ২৬ জনই উচ্চশিক্ষিত। নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বপ্রার্থী তালিকায় লিঙ্গ সমতা ও অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও নজর দিয়েছে দলটি। ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে দুজন নারী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দিলশানা পারুল ও নাবিলা তাসনিম। এ ছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে এক জনকে মনোনয়ন দিয়েছে এনসিপি।‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুণগত পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত’নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ ড. মো. শাহজাহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, এনসিপির এবারের প্রার্থী তালিকাটি কেবল একটি নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুণগত পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। আমরা দীর্ঘকাল ধরে যে ‘পেশি শক্তি’ ও ‘পরিবারতন্ত্রের’ রাজনীতি দেখে আসছি, এনসিপি তার বিপরীতে একটি মেধা ও তারুণ্যনির্ভর বিকল্প উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে।তিনি বলেন, এনসিপির প্রার্থী তালিকায় ৭৩ শতাংশ তরুণ প্রার্থীর অন্তর্ভুক্তি একটি সাহসী পদক্ষেপ। রাজনীতিতে যখন অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে তরুণদের আটকে রাখা হয়, তখন এনসিপি প্রমাণ করেছে যে, তারা আগামীর নেতৃত্ব তৈরিতে বিশ্বাসী। বিশেষ করে ২৬ বছরের মাসউদ ও ৬৪ বছরের কাদির সাহেবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ‘তারুণ্যের উদ্দীপনা’ এবং ‘অভিজ্ঞতার প্রজ্ঞা’—এই দুটির একটি চমৎকার ভারসাম্য।রাজনীতির বুদ্ধিবৃত্তিক রূপান্তরড. মো. শাহজাহান জানান, সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো ৮৬ শতাংশ প্রার্থীর উচ্চশিক্ষিত হওয়া এবং ব্যবসায়ীদের পরিবর্তে পেশাজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া। এটি নির্দেশ করে যে, আইনসভা এখন কেবল নীতি নির্ধারণী তর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গবেষণানির্ভর ও তথ্যভিত্তিক বিতর্কের ক্ষেত্র হয়ে উঠবে। এ ছাড়া শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীর রাজনীতিতে আসায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে টেকনিক্যাল দক্ষতার প্রতিফলন ঘটবে এবং ব্যবসায়ী নির্ভরতা কমলে ‘স্বার্থের সংঘাত’ হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্বতিনি আরও বলেন, নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধি রাখা কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি একটি দলের গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। যদিও দুই নারী প্রতিনিধি সংখ্যায় কম মনে হতে পারে, তবে সামগ্রিক মেধা ও তারুণ্যের ভিড়ে তাদের অবস্থান দলকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য ইমেজ দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এনসিপির এই ‘বড় চমক’ মূলত ভোটারদের একটি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে। রাজনীতি এখন আর কেবল প্রভাবশালীদের খেলা নয়, বরং এটি শিক্ষিত ও যোগ্যদের সেবার ক্ষেত্র। এই মডেল যদি সফল হয়, তবে তা দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও তাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করবে বলেই মত এই নির্বাচন বিশেষজ্ঞের।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নয়াদিন ডেস্ক

কমেন্ট বক্স